সেমিফাইনালে যাওয়া বড় চ্যালেঞ্জ: মাশরাফি

স্পোর্টস রিপোর্টার: সেই ২০০৩ সালে শুরু। একে একে খেলে ফেলেছেন তিনটি বিশ্বকাপ। ২০১১ সালে সেই বিখ্যাত কিংবা কুখ্যাত ট্র্যাজেডি না হলে হয়তো এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার হিসেবেই যেতেন। শেষটা যে এবারই হবে তা অনুমিতই ছিল। তাও এতদিন নিশ্চিত করেননি মাশরাফি। আজ করলেন। ইংল্যান্ডের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়ার আগে শেষবারের মত মুখোমুখি হলেন সাংবাদিকদের। জানিয়ে দিলেন, এটাই তার শেষ বিশ্বকাপ।

বিশ্বকাপকে ঘিরে দারুণ সব সুখস্মৃতি আছে বাংলাদেশের। ১৯৯৯ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে গিয়ে পাকিস্তানকে হারানোর নস্টালজিয়ায় আজও আক্রান্ত বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমিরা। ২০০৩ বিশ্বকাপটা ভুলে যাওয়ার মতো হলেও  ২০০৭ সালে বাংলাদেশ সেই বিশ্বকাপের অন্যতম দাবিদার ভারতকে হারিয়েছিল। সুপার সিক্সে উঠে হারায় দক্ষিণ আফ্রিকাকেও। ২০১১ সালে নজর কাড়ার মতো কিছু করা যায়নি। তবে ২০১৫ সালে সর্বশেষ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে বাংলাদেশ।

তবে সমস্যাও আছে। বাংলাদেশ আর আগের দল নয়। একটি দুটি ম্যাচে বড় দলকে হারিয়ে দিলে সেটাকে এখন আর সাফল্য বলা যাবে না। ধারাবাহিকভাবে ভালো খেললেই শুধু নিজেদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে বাংলাদেশ। এখানেই বিপদ। বড় টুর্নামেন্টে ভালো খেলেও ধারাবাহিকতার কারণে কাপ জিততে পারেনি টাইগাররা। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে সেমিফাইনাল হোক, কিংবা তিনবার এশিয়া কাপের ফাইনালে খেলা, বাংলাদেশের এই দলের বড় মঞ্চে চোক করার রেকর্ডটা নেহায়েত কম নয়।

এটিকেই বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ভালো করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে দেখছেন মাশরাফি। বিশ্বকাপ জেতার সামর্থ্য বাংলাদেশেরও আছে, সে কথা মানলেও স্বীকার করছেন, মানসিক চাপটা দলের ধারাবাহিক সঙ্গী। ‘বিশ্বকাপ জেতার সামর্থ্য অবশ্যই আছে, আবার কিছু নেতিবাচক ব্যাপারও আছে। হয়তো শেষ এশিয়া কাপ জিতলে এই ধরণের টুর্নামেন্ট কীভাবে জিততে হয় এটার অভ্যাস হতো। এই অভ্যাসটা থাকা খুব জরুরী। এর আগে সেমিফাইনাল যাওয়া হয়েছে,বা কোয়ার্টার ফাইনালে। ফাইনালও এশিয়া কাপে উঠে জিততে পারিনি তিনবার।’

বাংলাদেশের সবচেয়ে ভালো এবং অভিজ্ঞ দলটাই এবার বিশ্বকাপে যাচ্ছে, সেই সুখস্বপ্ন বাদ দিলে মাথায় আসে এবারের বিশ্বকাপের ফরম্যাট। রাউন্ড রবিন ফরম্যাটে লিগভিত্তিতে সব দল খেলবে সব দলের সাথে। দশ দলের কেউই খারাপ নয়। তাই সেমিফাইনালে যাওয়াটাকে বড় চ্যালেঞ্জই মনে করছেন মাশরাফি। তাই আপাতত লক্ষ্য বানাতে চান এই চ্যালেঞ্জ জেতা। ‘এই মুহূর্তে মনে হচ্ছে আমাদের সেমিফাইনালে যাওয়া খুব বড় চ্যালেঞ্জ। এর আগে যেটা বলতাম যে, সেমিফাইনাল গেলে একটা একটা ম্যাচ। এখনো তাই বলতে হচ্ছে। সেমিফাইনালে যদি যেতে পারি, অনেক বড় অর্জন হবে। কারণ এবারের ফরম্যাট সেই ৯২’র মতো। খুবই কঠিন। সেমিফাইনালে যাওয়া অনেক বড় অর্জন। আমরা অনেকবার সেমিফাইনাল, কোয়ার্টার ফাইনালে গিয়ে হেরেছি। এবার সেমিফাইনালটা যদি যাই, তাহলে বড় অর্জন হবে। তারপর ঐ নির্দিষ্ট দিনে ভালো খেলা গুরুত্বপূর্ণ।’

টানা ৯টি ম্যাচ খেলতে হবে। ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারবে বাংলাদেশ? সে প্রশ্নের উত্তরে মাশরাফি জানালেন, ভয় পাচ্ছেন না তারা। এটা একটা ভালো দিক বলেই মনে করেন তিনি। তাঁর মতে, এই ফরম্যাট হওয়ার কারণে দলের ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ থাকবে। তবে দলের খেলোয়াড়দের কাছে সেরাটাই চান মাশরাফি, ‘আমরা জানি প্রতিটি ম্যাচই ভালো যাবে না। এক মাসে ৯টি ম্যাচ খেলতে হবে। কোনো ম্যাচ খারাপ গেলে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ থাকছে। আমরা খেলোয়াড়েরা নিজেরা এটা নিয়ে আলোচনা করেছি। প্রত্যেককেই প্রতিটি ম্যাচে নিজেদের সেরাটা দিতে হবে।’

নিজের শেষ বিশ্বকাপ। নিজের উপর কেমন চাপ নিচ্ছেন, সে প্রশ্নের উত্তরে জানালেন, এই বিষয়টি নিয়েই ভাবতে চাচ্ছেন না তিনি। ‘আলাদা করে তৈরি হওয়ার কিছু নেই। আলাদা করে নিজেকে তৈরি করাটাও একধরনের চাপ। আমার কাছে মনে হয় না আলাদা করে কিছু প্রস্তুতি নিয়েও আমি ওখানে কিছু করতে পারব! সেখানে খেলোয়াড় হিসেবেই পারফর্ম করার চেষ্টা করতে হবে। অবশ্যই অধিনায়কত্বটা সেখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে। আমার যে দায়িত্বগুলো আছে, সেগুলি ঠিকঠাক করার চেষ্টা করব।’

print