স্মিথ-ওয়ার্নার বিশ্বকাপ দলে, কপাল পুড়লো হ্যান্ডসকম্বের

স্পোর্টস রিপোর্টার: যতোই হোক, বিশ্বকাপ দল বলে কথা। পরিসংখ্যান-গড় মিলিয়ে নিজেদের সেরা ক্রিকেটারদের বাদ দিয়ে দল গঠন করা যেনতেন কথা নয়। তাই সেই ঝুকিটা নিলোও না ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। স্টিভ স্মিথ এবং ডেভিড ওয়ার্নার আছেন বিশ্বকাপ দলে, তাই ফর্মে থাকার পরও বাদ পড়েছেন পিটার হ্যান্ডসকম্ব। পুরোপুরি ফিট না থাকাতে বাদ পড়েছেন পেসার জশ হ্যাজলউডও।

স্মিথ মাঠে ফিরলেও অধিনায়কত্বের দায়িত্ব ফেরত পাচ্ছেন না তিনি। জুনের এক তারিখে আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে নেতৃত্ব দেয়ার দায়িত্ব থাকছে অ্যারন ফিঞ্চের কাধেই। স্মিথ-ওয়ার্নার ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় চুক্তিতেও অর্ন্তভুক্ত হয়েছেন একই দিনে।

ভাবা হচ্ছিল, স্মিথ এবং ওয়ার্নার দলে ফেরার কারণ ভালো ফর্মের থাকার পরও দলে নিজেদের জায়গা হারাবেন উসমান খাঁজা এবং পিটার হ্যান্ডসকম্ব। কিন্তু ভারতের মাটিতে খাঁজার দুর্দান্ত ফর্মের কারণেই তাকে বাদ দিতে পারেননি নির্বাচকরা। গত দশটি ওয়ানডেতে যে পাঁচটি ফিফটিসহ দুটি সেঞ্চুরি আছে তার। তবে টিম কম্বিনেশনের বলির কোপ থেকে নিজেকে বাঁচাতে পারেননি হ্যান্ডসকম্ব।

হ্যান্ডসকম্ব যে চরম দুর্ভাগা, সে বিষয়ে সন্দেহ নেই কারোই। ইএসপিএন ক্রিকইনফোর দল থেকে বাদ পড়া সবচেয়ে দুর্ভাগা ক্রিকেটারের জরিপে যে ৬০% পাঠক তাকেই নির্বাচন করেছেন। খাঁজার মতো না হলেও যে তার ফর্মও তাচ্ছিল্য করার মতো নয় কোনোভাবেই। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে শেষ ১৩ ম্যাচে একটি সেঞ্চুরি এবং তিনটি ফিফটি পেয়েছেন। গড়টাও দারুণ, ৪৪। হ্যান্ডসকম্বের বাদ পড়া চমক হয়ে দাড়াচ্ছে তার উইকেটকিপিংয়ের দক্ষতার জন্যও। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে উইকেটের পিছে সবচেয়ে বড় ভরসা ছিলেন তিনি। তিনি বাদ পড়াতে দলে আছেন শুধু একজন উইকেটকিপারই। অ্যালেক্স ক্যারি।

ভালো খেলেও বিশ্বকাপ খেলার ভাগ্য হলো না হ্যান্সসকম্বের

অস্ট্রেলিয়ার ১৪ জনের স্কোয়াডে এটাই একটু অবাক করার মতো। কোনো কারণে ক্যারি চোটে পড়লে কিছু করার থাকবে না তাদের কাছে। ম্যাচের আগে চোটে পড়লে তাও অস্ট্রেলিয়া এ দল থেকে তারা উড়িয়ে আনতে পারবে পিটার হ্যান্ডসকম্ব, টিম পেইন কিংবা ম্যাথিউ ওয়েডকে। তবে ম্যাচের মাঝে ক্যারি চোটে পড়লে বড় বিপদেই পড়বে অজিরা।

দলে ফিরেই বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে দাঁড়াবেন ওয়ার্নার-স্মিথ

জশ হ্যাজলউড অবশ্য বাদ পড়েছেন ইনজুরির কারণেই। জানুয়ারি মাস থেকেই পিঠের চোট ভোগাচ্ছে তাকে। হ্যাজলউড না থাকাতে ভাগ্য খুলেছে  নাথান কোল্টার নাইলের। হ্যাজলউড দলে থাকলে দারুণ ফর্মের পরো বাদ পড়তে হতো তাকে। পেস অ্যাটাকে তার পাশাপাশি আরো আছেন মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স, ঝাই রিচার্ডসন এবং জেসন বেহেনডর্ফ। ঝাই রিচার্ডসন সম্প্রতি ফিরেছেন ঘাড়ের চোট থেকে।

ভারত এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে খেলা ক্রিকেটারদের মাঝে আরো বাদ পড়েছেন ব্যাটসম্যান অ্যাশটন টার্নার, যিনি দারুণ খেলেছেন পাকিস্তানের বিপক্ষে। কেন রিচার্ডসন জায়গা ধরে রাখতে পারেননি। তবে হ্যান্ডসকম্বের সাথে তারাও আছেন অস্ট্রেলিয়া এ দলে, যে দলে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারকে প্রস্তুত করা হচ্ছে বিশ্বকাপের পরপরই শুরু হতে যাওয়া অ্যাশেজ সিরিজের জন্য। দলে স্পিনার হিসেবে আছেন লায়ন এবং অ্যাডম জম্পা।

অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ স্কোয়াড: অ্যারন ফিঞ্চ(অধি.), স্টিভ স্মিথ, ডেভিড ওয়ার্নার, উসমান খাঁজা, শন মার্শ, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, মার্কাস স্টয়নিস, অ্যালেক্স ক্যারি, প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, ঝাই রির্চার্ডসন, নাথান কোল্টার নাইল, নাথান লায়ন, অ্যাডাম জম্পা। 

অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ স্কোয়াড। ছবি: ক্রিকেট নেটওয়ার্ক অস্ট্রেলিয়া
print